Home Page - E-Learning Bengali

Bengali E-Learning
Go to content

Bengali E-Learning Platorm


একটি দেশ কিংবা জাতিকে ধ্বংস করার জন্য কোনো বোমা বা পারমানবিক অস্ত্রের প্রয়োজন নেই, শিক্ষার গুণমান নিম্নমানের করে দিলে এবং শিক্ষার্থীরের অসদুপায়ে পরীক্ষার সুযোগ দিলেই যথেষ্ট...কারণ তার ফলে...অসদুপায়ে শিক্ষিত ডাক্তারের হাতে রোগী মারা পড়বে, এ ধরনের ইঞ্জিনিয়ারের দ্বারা তৈরি রাস্তা, সেতু, ঘর খুব তাড়াতাড়ি ধ্বংস হয়ে পড়বে, দেশের অর্থনীতি জোচ্চোরদের হাতে পড়বে, অন্ধ ধর্মীয় পাষণ্ডদের হাতে মানবিকতা ধ্বংস হয়ে যাবে, এ ধরনের বিচারকের হাতে পড়ে "বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদবে'। শিক্ষার গুণমান ধ্বংস হলে জাতির ধ্বংসও অবশ্যম্ভাবী।
বাংলা ই-লার্নিং বাংলা সাহিত্যচর্চার একটি আর্কাইভ। ওয়েবটি বাংলা বিদ্যাচর্চার বিকাশের সাথে জড়িত। আপনিও এই ওয়েবের সাথে যুক্ত হতে পারেন এবং বাংলা বিদ্যাচর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের সাহায্য করতে পারেন। এই ওয়েবের প্রতিটি তথ্য ক্রিয়েটিভ কমন আন্তর্জাতিক লাইসেন্সের অধীন।
বাংলা সাহিত্যের ক্রমবিকাশ
প্রাচীন ও মধ্য যুগ
বিজয় গুপ্তের মনসামঙ্গল


আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ক্রমবিকাশ
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের সূচনা পর্ব
সাহিত্যিকদের অবদান
উচ্চারণে 'ম' এর ব্যবহার
১) পদের প্রথম ব্যঞ্জনবর্ণে ম-ফলা সংযুক্ত হলে সাধারণত তার কোনো উচ্চারণ হয় না। যেমন- শ্মশান (শশান), স্মৃতি (সৃঁতি), স্মরণ (শরোন্), স্মারক (শারোক) ইত্যাদি।
২) পদের মধ্যে বা শেষে ম-ফলা যুক্ত বর্ণের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়। যেমন পদ্ম (পদদো), আত্ম (আঁততোঁ), রশ্মি (রোশশি), বিস্ময় (বিশশয়) ইত্যাদি।
৩) পদের মধ্যে বা শেষে গ ঙ ট প ন ম ও ল-এর সঙ্গে সংযুক্ত ম-এর উচ্চারণ, সাধারণত অবিকৃত থাকে। যেমন- বাগ্মী (বাগমি), বাঙ্ময় (বাঙময়), মৃন্ময় (মৃন্ময়), উন্মাদ (উন্মাদ), জন্ম (জন্ম), সম্মান (শম্মান), গুল্ম (গুলমো), বাল্মীকি (বালমিকি),  ইত্যাদি।
৪) যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে সংযুক্ত ম-ফলার কোনো উচ্চারণ হয় না, তবে সামান্য আনুনাসিক হয়। যেমন- সূক্ষ্ম (শুকখোঁ), লক্ষণ (লকখোন), যক্ষ (জকখা) ইত্যাদি।
৫) ম-ফলাযুক্ত কিছু সংস্কৃত শব্দে ম-এর উচ্চারণ হয়। যেমন- স্মিত (স্মিত), কুষ্মাণ্ড (কুশমানণ্ড)), সুস্মিতা (শুশমিতা), কাশ্মীর (কাশমির), উষ্মা (উশমা) ইত্যাদি।

বরাক-চর্চা: সাহিত্যচর্চায় গর্বিত-নিজস্বতা, অমলেন্দু ভট্টাচার্য
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত
বরাক নদী-বিধৌত দক্ষিণ অসমের সমতল তিনটি জেলা, বরাক উপত্যকা নামে পরিচিত। রাজনৈতিক কাঁটাছেড়ায় অসমের অন্তর্ভুক্ত হলেও আবহমান কাল থেকে গাঙ্গেয় সমতলের এই বর্ধিষ্ণু ভূখণ্ডের মূল সাংস্কৃতিক ধারাটি বঙ্গীয়। তিন দিকে দুর্গম পাহাড় ঘেরা বরাক উপত্যকা একটি অবরুদ্ধ জনপদ। মানুষের মনোজীবনে ভূগোলের প্রভাব অনস্বীকার্য। সম্ভবত এই কারণেই বরাকবাসী নিজস্ব আচার-সংস্কার নিয়ে গর্ববোধ করেন। ঐতিহ্যকে মহিমান্বিত করার এই প্রবণতা বরাকের সাহিত্যেও পরিলক্ষিত হয়।
বরাক উপত্যকায় মনসামঙ্গল রচয়িতা একজন কবির নাম রামচন্দ্র চৌধুরী। তাঁর কাব্যের চাঁদ সওদাগর বাণিজ্যের জন্য ‘সিদল’ (শুকনো মাছ) সঙ্গে নিয়ে সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছেন এবং সিংহলের রাজার কাছে ‘আশ্চর্য বস্তু’ তথা ‘সিদলপুড়া’ তৈরির প্রণালীও বর্ণনা করেছেন—‘অগ্নিমধ্যে সিদলকে কিঞ্চিত জ্বালাইয়া/কাঁচামরিচ আদা লবণ মিশাইয়া/মিশ্রিত করিয়া যদি করহ ভক্ষণ/তবে সিদলের মর্ম জানিবা আপন।’
আধুনিক পর্বের উন্মেষ লগ্নের কবি রামকুমার নন্দীমজুমদারের উল্লেখযোগ্য দু’টি কাব্য ‘বীরাঙ্গনা পত্রোত্তর’ ও ‘উষোদ্বাহ কাব্য’। মধুসূদনের ‘বীরাঙ্গনা কাব্যে’র প্রত্যুত্তরবাচী রচনা ‘বীরাঙ্গনা পত্রোত্তর’ কাব্যে উপভাষার সার্থক প্রয়োগ কাব্যটিকে আঞ্চলিক পরিচয়ে চিহ্নিত করেছে। ‘....কেকয়ীর প্রতি দশরথ’-এ ক্রুদ্ধ দশরথ বারবার বলেছেন, ‘কঃ তবে, কঃ তবে এখনি’। এ-ও তো সেই আঞ্চলিক ভাষা! তুচ্ছার্থক মধ্যম পুরুষের সিলেটি ক্রিয়ারূপ। ভাষাবিদ ও সমালোচক অধ্যাপক ভূদেব চৌধুরী দেখিয়েছেন: বরাক উপত্যকার ভাষা আজও বলে, ‘তুমি কও’ (<কহ), আর ‘তুই ক’ (<কও <কহ)। দশরথের ক্রোধ ও ঝাঁজ প্রকাশের উপভাষার এহেন প্রয়োগ কবির স্বকীয়তার পরিচয়। উষোদ্বাহ কাব্যে দৈত্যরাজ বাণের কন্যা উষার বিবাহে অনুসৃত হয়েছে স্থানীয় স্ত্রী-আচার। রয়েছে জলভরা আচারের মনোজ্ঞ বর্ণনা।
এই ধারাবাহিকতার সূত্রে রবীন্দ্রোত্তর ভাবধারায় দীক্ষিত কবি শক্তিপদ ব্রহ্মচারী সগর্বে ঘোষণা করেন, ‘বাংলা আমার আই ভাষা গো, বিশ্ব আমার ঠাঁই/প্রফুল্ল ও ভৃগু আমার খুল্লতাত ভাই।’ (উদ্বাস্তুর ডায়েরি)
নিঃসন্দেহে ভাষা-আন্দোলন বরাকের সৃষ্টিশীল ভাবনার প্রেরণার উত্স। উপত্যকাবাসীর মনন-চিন্তনে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে শহিদের রক্তরঞ্জিত উনিশে মে। এই সংলগ্নতার স্বরূপ বিধৃত হয়েছে জলালউদ্দিন লস্করের কবিতায়, ‘উনিশ এখন মাঠে রাখালের/ মন মোহনীয়া বাঁশী।/উনিশ এখন শিশুর মুখের/ প্রাণ জাগানো হাসি।/উনিশ আমার শিরায় শিরায়/রক্ত কোলাহল/বর্ণমালার বিজয়ী ধ্বজা/উনিশ এনে দিলে।’ (উনিশ আমার উনিশ)
উপন্যাসের ক্ষেত্রেও প্রাধান্য পেয়েছে ঐতিহ্যপ্রীতি। ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হারানচন্দ্র রাহার ‘রণচণ্ডী’ উপন্যাসের পটভূমি হেড়ম্ব রাজ্য। হেড়ম্ব রাজ্যের কুলদেবী রণচণ্ডীর উদ্ভব সম্পর্কীত একটি ভিন্ন কাহিনি বর্ণিত হয়েছে এই উপন্যাসে। মোগলদের সঙ্গে সংগ্রামে রাজা উপেন্দ্রনারায়ণ নিহত হলে যুবরাজ শত্রুদমন কী ভাবে হৃতরাজ্য উদ্ধার করলেন সেই কাহিনী। আর এর সমান্তরালে বর্ণিত হয়েছে নায়িকা রুণুর সঙ্গে যুবরাজের প্রণয়কাহিনি। বরাক উপত্যকার দুটি সুপ্রাচীন তীর্থস্থান সিদ্ধেশ্বর ও ভুবন, দুর্গম পার্বত্য পথ, বনবাসী কুকিদের সামাজিক রীতিনীতির বস্তুনিষ্ঠ বিবরণ রয়েছে এই উপন্যাসে। আঞ্চলিক ইতিহাস নির্ভর রচনা ‘রণচণ্ডী’র বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অধ্যাপক বিজিতকুমার দত্ত বলেছেন, ‘রণচণ্ডীর বিষয়বস্তু সারালো। বাংলা ঐতিহাসিক উপন্যাসে এ জাতীয় ঘটনা বিশেষ পাওয়া যায় না। পার্বত্য অধিবাসীদের নিয়ে কাহিনি রচনার মধ্যে অভিনবত্ব আছে নিশ্চয়ই।’ ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত লাবণ্যকুমার চক্রবর্তীর ‘মহারাণী ইন্দুপ্রভা’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মণিপুর রাজকন্যা হেড়ম্বমহিষী ইন্দুপ্রভা। উপন্যাসের সূচনাস্থল প্রাচীরবেষ্টিত রাজধানী-নগরী খাসপুর। বরাক উপত্যকার প্রথম মৌলিক সামাজিক উপন্যাস ‘নারীশক্তি বা অশ্রুমালিনী’র (১৯২৪) পটভূমিও বরাক উপত্যকা। বিভিন্ন ঘটনাসূত্রে বর্ণিত হয়েছে সিদ্ধেশ্বর তীর্থের ঐতিহাসিক লক্ষাহুতি যজ্ঞ, বদরপুর-লামডিং রেলপথের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য ও সুড়ঙ্গপথের কথা। পরবর্তী ঔপন্যাসিকরা লিপিবদ্ধ করছেন প্রান্তিক মানুষের হাসি-কান্নার ছবি। প্রকাশিত হয়েছে গণেশ দে-র ‘কলংমার কূলে’ (১৯৮৯), রণবীর পুরকায়স্থের ‘সুরমা গাঙের পানি’ (২০১২), ইমাদউদ্দিন বুলবুলের ‘সুরমা নদীর চোখে জল’ (২০১৩) ইত্যাদি। কলংমা, সুরমা এমন নদীর নামেই ব্যঞ্জিত হয় ভূগোলের পরিচিতি।
বরাক উপত্যকার প্রাবন্ধিক গোষ্ঠী বিশ শতকের সূচনাকালে বিশেষ একটি ঘটনাসূত্রে উপলব্ধি করেছিলেন জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনেই আঞ্চলিক ঐতিহ্য চর্চা করা দরকার। লোকসংস্কৃতিবিদ উইলিয়াম ক্রকের গবেষণার প্রয়োজনে ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে শ্রীহট্ট-কাছাড় বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন পদ্মনাথ ভট্টাচার্য। এই অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘‘এই ব্যাপারে স্বদেশের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে আমার ‘হাতেখড়ি’ হইয়াছিল, পরিণাম শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত।’’ অচ্যুতচরণ চৌধুরীর ‘শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত’ (১৯১০) প্রকাশের পর থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত রচিত ইতিহাস, সমাজ, সংস্কৃতি, জনবিন্যাস, সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞান, ধর্ম, ভাষাতত্ত্ব, অভিধানবিদ্যা বিষয়ক অজস্র প্রবন্ধ বরাকের সাহিত্যভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।
বরাক উপত্যকার পটভূমিতে গল্প রচনা শুরু হয়েছে পরবর্তীকালে—বিশেষত গত শতকের সাতের দশক থেকে। প্রথম ছোটগল্প সংকলন ‘নীলগোলাপ’ (১৯৬৯)। সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত প্রকাশিত গল্পগ্রন্থের সংখ্যা তিরিশটিরও বেশি। এই উপত্যকার প্রধান শিল্প, চা। চা-বাগানের শিল্পনির্ভর জীবনের মূল্যবোধ কৃষিভিত্তিক সমাজের থেকে ভিন্ন। শোষণ, বঞ্চনা, অশিক্ষা, কুসংস্কার, দারিদ্রজর্জর চা-বাগান শ্রমিকদের জীবনের পটভূমিতে লেখা হয়েছে বেশকিছু উত্কৃষ্ট গল্প।
দীনবন্ধু মিত্র সরকারি কাজে বরাক উপত্যকায় এসেছিলেন ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে। তাঁর শেষ নাটক ‘কমলে কামিনী’ (১৮৭৩) কাছাড়ের ইতিহাস অবলম্বনে রচিত। এ বিষয়ে এর আগে কোনও নাটক রচিত হয়নি। ‘কমলে কামিনী’ বরাক উপত্যকার মানুষকে উদ্দীপিত করেছিল সন্দেহ নেই। নাট্যসাহিত্যের সঙ্গে মঞ্চের অচ্ছেদ্য যোগ। বরাক উপত্যকার প্রথম নাট্য সংস্থা ‘রিডিং অ্যান্ড ড্রামাটিক ইনস্টিটিউট’ (১৯১১)। প্রথম পর্বে প্রকাশিত হয়েছে শেক্সপিয়র, মেটারলিঙ্কের নাটকের অনুবাদ। প্রথম মৌলিক নাটক ‘মেঘমল্লার’ (১৯৩৫), মেয়েদের নাট্যাভিনয়ের প্রয়োজনে লেখা। নাট্যকার ভূপেন্দ্রকুমার শ্যাম। নাট্যসাহিত্যের পরিপুষ্টি সাধনে শিলচর বেতার কেন্দ্রের (১৯৭২) পৃষ্ঠপোষকতা অনস্বীকার্য। এই অঞ্চলের নিজস্ব জীবনবোধ নিয়ে লেখা কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাটক হল চিত্রভানু ভৌমিকের ‘আইজও আন্ধাইর’, শেখর দেবরায়ের ‘মনসাকথা’, তীর্থঙ্কর চন্দের ‘কাঠের তরোয়াল’ ইত্যাদি।
বরাকের সাহিত্যধারায় মেয়েদের লেখালেখির কথা আলাদাভাবে বলা দরকার। কারণ দীর্ঘসময় পর্যন্ত অন্তঃপুরবাসিনীদের ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতা ছিল না। মহাত্মা গাঁধী শিলচরে আসেন ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে। গাঁধীদর্শন উপলক্ষে মেয়েরা প্রথম প্রকাশ্যে চলাফেরার অনুমতি পান। মেয়েদের উদ্যোগে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকাটির নাম ‘মাসিক বিজয়িনী’ (১৯৪০)। সম্পাদক জ্যোত্স্না চন্দ। ‘বিজয়িনী’র অধিকাংশ লেখিকা নাম প্রকাশ করতেন না। এই কুণ্ঠার কারণ সহজে অনুমেয়। সুপ্রভা দত্ত, অনুরূপা বিশ্বাস প্রমুখের আত্মজীবনীমূলক রচনায় যেমন আছে প্রতিবাদী উচ্চারণ, তেমনি আছে ‘খাঁচার পাখি’র অসহায় ছটফটানি।
বহুভাষিক এই উপত্যকায় ডিমাসা, মণিপুরি, হিন্দি, মার, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি ভাষায়ও বিস্তর লেখালেখি হচ্ছে। অনুবাদের কাজও চলছে। বিভিন্ন ভাষার কবি-লেখকরা প্রায়শই একত্রিত হয়ে নিজেদের সাহিত্য পাঠ করছেন। ঘনীভূত হচ্ছে সমন্বয়ী চেতনা। বরাক নদীর জলস্রোতের মত বরাকের সাহিত্যও নিয়ত প্রবহমান।
করিমগঞ্জ কলেজের জন্মলগ্নের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
আসামের বরাক উপত্যকায় স্বাধীনতা পূর্ববর্তী যে দুটি মহাবিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছিল তার মধ্যে করিমগঞ্জ মহাবিদ্যালয় অন্যতম। শিলচরের গুরুচরণ কলেজ (১৯৩৫) এর পর ১৯৪৬ সালে করিমগঞ্জে করিমগঞ্জ মহাবিদ্যালয় স্থাপিত হয়। তার পরবর্তীকালে এই উপত্যকায় অন্যান্য মহাবিদ্যালয়গুলি ক্রমে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে-
জেন হেলেন রোলান্ডস (Miss J. H. Rowlands):
করিমগঞ্জ কলেজ এবং করিমগঞ্জ এর ইতিহাসে এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব
বাঙালি না হয়ে বাঙালিদের জন্য যে মনে প্রাণে নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন তিনি হলেন একজন আইরিশ মহিলা জেন হেলেন রোলান্ডস (Miss J. H. Rowlands)। তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান মিশনারি। ভারতবর্ষকে ভালোবেসে সুদূর আয়ারল্যান্ড থেকে শিলচরের মিশনারী চার্চে এসেছিলেন ১৯৩২ সালে। আপোষহীন ও একজন ব্যক্তিত্বশালীনি মহিলা ছিলেন বলে খুব কম সময়ের মধ্যেই তিনি তখন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। ঔপনিবেশিক শাসনযন্ত্রের যাঁতাকলে আমরা একসময় যেমন পিষ্ট ছিলাম, ঠিক সে সময় এমন কিছু ব্যক্তিত্ব ভারতে এসেছিলেন যারা আমৃত্যু ভারতের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে গেছেন। ধর্ম প্রচারক হলেও রোলান্ডস এই পিছিয়ে থাকা তৎকালীন সুরমা উপত্যকায় নারী শিক্ষায় এগিয়ে এসেছিলেন।
ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্স

Website Developed by:
DR. BISHWAJIT BHATTACHARJEE
Assistant Prof. & Head
Dept. of Bengali
Karimganj College, Karimganj, Assam, India, 788710

+919101232388

bishwa941984@gmail.com
Important Links:
Back to content