দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার - E-Learning Bengali

Bengali E-Learning
Go to content
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার (১৮৭৭-১৯৫৭)
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার একজন বাংলার খ্যাতনামা শিশুসাহিত্যিক। তিনি বাংলা শিশুসাহিত্যে রূপকথার জনক বলে খ্যাত। "ঠাকুরমার ঝুলি' প্রকাশের মাধ্যমে বাংলার রূপকথাকে তিনি জনসমক্ষে তুলে আনেন। "ঠাকুরমার ঝুলি'র স্রষ্টা দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার শুধুমাত্র রূপকথার জনকই ছিলেন না, বাঙালি সমাজে তিনি পরিচিত ছিলেন লোকসাহিত্যের সংগ্রাহক, ছড়াকার, চিত্রশিল্পী, দারুশিল্পী এবং কিশোর কথাকার হিসেবেও। এদেশের কিশোর কিশোরীদের সাহিত্যমুখী করতে তিনি অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
জন্ম ও পরিবার:
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন ১৮৭৭ সালে ঢাকা জেলার উলাইল গ্রামের বিখ্যাত মজুমদার বংশে। তাঁর পিতার নাম রমদারঞ্জন মিত্র মজুমদার ও মাতার নাম কুসুমময়ী দেবী। তিনি ছিলেন বাবা-মার একমাত্র সন্তান। তাঁর জীবনের অনেকটা অংশ জুড়ে ছিলেন মা কুসুমময়ী দেবী, মূলত শিশু দক্ষিণারঞ্জনের সামনে রূপকথার জগত খুলে দিয়েছিলেন তার মা। কুসুমময়ী দেবীর হঠাৎ মৃত্যু হলে দক্ষিণারঞ্জনকে সামলানোর দায়িত্ব নেন তার পিসী রাজলক্ষ্মী দেবী।
শিক্ষাজীবন:
১৮৮৭ সালে দশবছর বয়সে তাকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয় ঢাকার কিশোরীমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে। ১৮৯৩ সালে কিশোরীমোহন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে দক্ষিণরঞ্জনকে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীকালে তাকে টাঙ্গাইলের সন্তোষ জাহ্নবী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়। ১৮৯৮ সালে তিনি  মুর্শিদাবাদের বহরমপুর হাইস্কুল থেকে প্রথম বিভাগে এন্ট্রাস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর কৃষ্ণনাথ কলেজে এফ এ ক্লাসে ভর্তি হন।
কর্মজীবন:
দক্ষিণারঞ্জনের  কর্মজীবন এবং সাহিত্যিক জীবন প্রায় একই। সারাজীবনই তিনি লোকসাহিত্য সংগ্রহ ও সম্পাদনা করেছেন। এই সংগ্রহকে চারভাগে বিভক্ত করা হয়েছে: রূপকথা, গীতিকাব্য, রসকথা ও ব্রতকথা।
১৯০২ সালে পিতার মৃত্যুর পর থেকে তিনি টাঙ্গাইলে পিসীর বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। তখন পিসী রাজলক্ষ্মী দেবী তাকে জমিদারী দেখাশোনার দায়িত্ব দেন। পিসীর বাড়িতে থাকাকালীন এই কৃষিকাজ তদারকি করা তাঁর কর্মজীবনের একটি উজ্জ্বল অধ্যায়। এছাড়াও তিনি বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদের সহ-সভাপতি ও উক্ত পরিষদের মুখপত্র-"পথ' এর সম্পাদক ছিলেন এবং পরিষদের বৈজ্ঞানিক পরিভাষা সমিতির সভাপতিরূপে বাংলায় বিজ্ঞানের বহু পরিভাষা রচনা করেন।
সাহিত্যিক জীবন:
সাহিত্যচর্চার প্রতি অপরিসীম আগ্রহ ছিল দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের। প্রথমদিকে সাহিত্য পরিষদ পত্রিকা "প্রদীপ' প্রভৃতি পত্রিকাতে তাঁর প্রবন্ধাবলি প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক "সুধা' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। তাঁর প্রথম কাব্য "উত্থান' প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে। তিনি সুধা, সারথি, পথ ইত্যাদি সাহিত্য পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাংলা সাহিত্যজগতে তাঁর উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব হল রূপকথার সাম্রাজ্য তৈরি করা। দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার রূপকথার গল্পগুলি সংগ্রহ করেছিলেন তৎকালীন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল থেকে। তাঁর সংগৃহীত জনপ্রিয় রূপকথার সংকলনটি চারটি খন্ডে প্রকাশিত: "ঠাকুরমার ঝুলি', "ঠাকুরদাদার ঝুলি', "ঠানদিদির থলে', "দাদামহাশয়ের থলে'। তিনি গল্পগুলি সংগ্রহ করেছিলেন ঠিকই কিন্তু উনার লেখনীর গুণে গল্পগুলি হয়ে উঠেছিল শিশুমনোরঞ্জক।'ঠাকুরমার ঝুলি' বাংলা শিশুসাহিত্যের একটি জনপ্রিয় রূপকথার সংকলন।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর "ঠাকুরমার ঝুলি'র ভূমিকাতে লিখেছিলেন:

"তিনি ঠাকুরমার মুখের কথাকে ছাপার অক্ষরে তুলিয়া পুঁতিয়াছেন, তবু তাহার পাতাগুলি প্রায় তেমনি সবুজ তেমনি তাজাই রহিয়াছে; রূপকথার সেই বিশেষ ভাষা, সেই বিশেষ রীতি, তাহার সেই প্রাচীন সরলতাটুকু তিনি যে এতটা দূর রক্ষা করিতে পারিয়াছেন, ইহাতে তাহার সূক্ষরসবোধ ও স্বাভাবিক কলানৈপুণ্য প্রকাশ পাইয়াছে।'

"ঠাকুরমার ঝুলি' লেখা শেষ হওয়ার পর প্রকাশনার জন্য বিভিন্ন প্রকাশকের কাছে গিয়ে শূন্য হাতে ফিরে আসার পর তাঁর দেখা হয় বিখ্যাত অধ্যাপক-গবেষক দীনেশচন্দ্র সেনের সঙ্গে। পরবর্তীতে ১৯০৭ সালে দীনেশচন্দ্র সেনের উদ্যোগে তখনকার নামী প্রকাশনা সংস্থা ভট্টাচার্য অ্যান্ড সন্স থেকে "ঠাকুরমার ঝুলি' প্রকাশিত হয়। এরমধ্যে রয়েছে চৌদ্দটি গল্প: কলাবতী, রাজকন্যা, ডালিমকুমার, নীলকমল আর লালকমল, ঘুমন্ত পরী, সাত ভাই চম্পা, কিরণমালা, কাঁকনমালা কাঞ্চনমালা ইত্যাদি। "ঠাকুরমার ঝুলি'র ভূমিকা অংশে লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (বোলপুরে,২০শে ভাদ্র,১৩১৪ বঙ্গাব্দে):
"দেশের শিশুরা কোন পাপে আনন্দের রস হইতে বঞ্চিত হইল?-মাতৃদুগ্ধ একেবারে ছাড়াইয়া লইয়া কেবলই ছোলার ছাতু খাওয়াইয়া মানুষ করিলে ছেলে কি বাঁচে?-কেবল বইয়ের কথা দেশলক্ষ্মীর বুকের কথা কোথায়?-বাংলার ছেলে যখন রূপকথা শোনে,সমস্ত বাংলাদেশে চিরন্তন স্নেহের সুরটি তাহার চিত্তের মধ্যে প্রবেশ করিয়া তাহাকে যেন রসে রসাইয়া লয়।'

সাহিত্যপ্রতিভা ছাড়াও দক্ষিণারঞ্জনের আরও দুটি গুণ ছিল। তিনি ছিলেন অসাধারণ চিত্রশিল্পী। নিজের বইয়ের ছবি এবং প্রচ্ছদগুলো তিনি সবসময় নিজেই আঁকতেন। এছাড়াও তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ দারুশিল্পী। পূর্ণদাস রোডের যে বাসভবন, সেখানকার কাঠের শিল্পকর্ম তিনি নিজের হাতে করেছিলেন।
১৯০৮ সালে বিক্রমপুরের মালখানগরের বসু পরিবারের কন্যা গিরিবালা দেবীর সঙ্গে তিনি বিবাহ বদ্ধনে আবদ্ধ হন।দক্ষিণারঞ্জনের এগারোটি সন্তান ছিল।
রচনাবলী:
১) ঠাকুরমার ঝুলি (১৯০৭)
২) ঠাকুরদাদার ঝুলি (১৯০৯)
৩) ঠানদিদির থলে (১৯০৯)
৪) দাদামহাশয়ের থলে (১৯১৩)
৫) চারু ও হারু (১৯১২)
৬) ফার্স্ট বয় (১৯২৭)
৭) লাস্ট বয়
৮) বাংলার ব্রতকথা
৯) আমার দেশ
১০) সরল চন্ডী (১৯১৭)
১১) পুবার কথা (১৯১৮)
১২) আমাল বই (১৯১২)
১৩) উৎপল ও রবি (১৯২৮)
১৪) কিশোরদের মন (১৯৩৩)
১৫) কর্মের মূর্তি (১৯৩৩)
১৬) বাংলার সোনার ছেলে (১৯৩৫)
১৭) সবুজ লেখা (১৯৩৮)
১৮) চিরদিনের রূপকথা (১৯৪৭)
১৯) আশীর্বাদ ও আশীর্বাণী (১৯৪৮) প্রভৃতি।
মৃত্যু:
তিনি ১৯৫৭ খ্রীঃ ৩০শে মার্চ (১৩৬৩ বঙ্গাব্দের ১৬ই চৈত্র) আশি বছর বয়সে কলকাতার নিজ বাসভবন "সাহিত্যাশ্রম'-এ মৃত্যুবরণ করেন।
জয়িতা এস্‌
তথ্যসূত্র:
১) উইকিপিডিয়া :দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
২) বাংলা পিডিয়া
৩) ঠাকুরমার ঝুলি:দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
(প্রকাশ: ১৩.০৬.২০২১)
There are no reviews yet.
0
0
0
0
0

Website Developed by:
DR. BISHWAJIT BHATTACHARJEE
Assistant Prof. & Head
Dept. of Bengali
Karimganj College, Karimganj, Assam, India, 788710

+919101232388

bishwa941984@gmail.com
Important Links:
Back to content