বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় - E-Learning Bengali

Bengali E-Learning
Go to content
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৪-১৯৫০)
বিভূতিভূষণ বাংলা কথাসাহিত্যের কল্লোল যুগের  অন্যতম পথিকৃৎ। বেশ কিছু কালজয়ী উপন্যাস রচনার মাধ্যমে তিনি জয় করে নিয়েছেন বাঙালি পাঠকদের হৃদয়। উপন্যাস রচনার পাশাপাশি তিনি রচনা করেছিলেন ছোটগল্প, ভ্রমণ কাহিনি, দিনলিপি ইত্যাদি। তাঁর বহুচর্চিত উপন্যাস হল "পথের পাঁচালী', যা দেশের গণ্ডি পেড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও ব্যাপক  জনপ্রিয়তা লাভ করে। তাঁর ব‍্যক্তিগত জীবন অত্যন্ত সাধারণ ছিল, অনবরত দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে তিনি জীবনের শেষ দশ বছর  আর্থিক স্বচ্ছলতা পেয়েছিলেন। তাঁর সাহিত্যের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ছিল মানুষ, প্রকৃতি, ঈশ্বর। তাঁর লেখালেখির জীবন ছিল অতি স্বল্প, মাত্র আঠাশ বছর।  তিনি আয়ু ছিল মাত্র ৫৬ বৎসর। এই সময়ের মধ্যেই তিনি গল্প, কবিতা, উপন্যাস ইত্যাদি কিছু রচনা করেন। সাধারণ মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন বিভূতিভূষণ।  তাঁর বৃত্তি ছিল শিক্ষকতা, যা তিনি কিছুটা কলকাতায় আর বেশিরভাগ সময় গ্রামের বিদ্যালয়ে কাটিয়েছেন। তাঁর পছন্দের বিষয় ছিল সাহিত্য, ভ্রমণ বৃত্তান্ত, আকাশ তত্ত্ব, জীববিজ্ঞান, উদ্ভিদবিদ্যা, পরলোকতত্ত্ব, ভূগোল এবং জ‍্যোতির্বিদ্যা। বিভূতিভূষণ এমন এক সাহিত্যিক যার গল্পে আছে এক বিশেষ অনুভূতি, এক বিপুল পৃথিবীর অমেয় শক্তিধারা, বিপুল বিশ্বের জীবনাবেগ, যা গল্পকথকের স্বতন্ত্র্যচিন্তায় ব‍্যক্ত হয়েছে। সাহিত্যে বিভূতিভূষণের অসামান্য কৃতিত্বের জন্য তিনি মরণোত্তর "রবীন্দ্র পুরস্কার' লাভ করেন।
জন্ম ও শিক্ষা
১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া মুরারিপুর গ্রামে নিজ মাতুলালয়ে  জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ব্যারাকপুর গ্রামে।
পিতা-মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন প্রখ্যাত সংস্কৃত পণ্ডিত। এই পাণ্ডিত্য ও কথাকতার জন্য তিনি "শাস্ত্রী' উপাধিতে ভূষিত হন।
মাতা-মৃনালিনী দেবী।
তিনি দুটি বিয়ে করেন, প্রথম স্ত্রী গৌরী দেবী ও দ্বিতীয় স্ত্রী রমা দেবী। প্রথম বিয়ে ১৯১৯ সালের শ্রীকালীভূষণ মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে  গৌরী দেবীর সাথে এবং দ্বিতীয় বিয়ে ১৯৪০ সালের ৩রা ডিসেম্বর ষোড়শীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ে রমা দেবীর সাথে।
ভাই - ইন্দুভূষণ, নট‍্যুবিহারী
বোন -জাহৃবী, স্বরস্বতী
ঠাকুরদা-ছিলেন একজন আয়ুর্বেদিক  চিকিৎসক।
আদি নিবাস-২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার অন্তর্গত পানিতর গ্রামে।
শিক্ষা
স্ব-গ্রামের পাঠশালায় বিভূতিভূষণের প্রথম শিক্ষা শুরু হয়। তিনি সবসময়ই একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তিনি এন্ট্রাস পরীক্ষায় ফার্স্ট ডিভিশন নিয়ে পাশ করেন।  তারপর ভ‍র্তি হন রিপন কলেজে যার বতর্মানে নাম সুরেন্দ্রনাথ কলেজ। রিপন কলেজেও ফার্স্ট ডিভিশন নিয়ে পাশ করেন বিভূতিভূষণ তারপর ১৯১৮সালে বি.এ পরীক্ষায়ও ডিস্টিইংশন নিয়ে পাশ করেন বিভূতিভূষণ।
কর্মজীবন
শিক্ষকতা দিয়েই তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়েছে। বিভূতিভূষণের কথা সাহিত্যের উপাদান ও বিষয়বস্তুও খুব সাধারণ। তাঁর ব‍্যক্তিগত জীবনও সাধারণ, বৈচিত্রহীন। দারিদ্র্যের সঙ্গে তিনি  ঘর করেছেন কিন্তু সেই জীবনেও তেমন সুখ-সাচ্ছন্দ পাননি। তাঁর বৃত্তি ছিল শিক্ষকতা কিন্তু সেই শিক্ষকতাও কিছুটা ছিল কলকাতায় আর বাকিটা ছিল গ্রামের বিদ্যালয়। তিনি এক উদাসীন প্রকৃতির লোক ছিলেন এমনকি উপার্জনেও তেমন মন ছিল না। ১৩২৮ সালের মাঘ সংখ্যা "প্রবাসী'তে "উপেক্ষিতা' গল্পের মাধ‍্যমে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বিভূতিভূষণের প্রথম আর্বিভাব ঘটে। তিনি সেসময় "গোরক্ষিণী' সভার প্রচারক ছিলেন। এবং পরে খেলাৎচন্দ্র ঘোষের এস্টেটের ভাগলপুর সার্কেলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর যোগ দেন গোপালনগর হরিপদ ইস্টিটিউশন স্কুলে। জীবনের শেষ দিন অবধি তিনি এই স্কুলে কর্মরত  ছিলেন। তাঁর প্রথম স্ত্রী গৌরী দেবী যিনি কলেরা রোগে মারা মান, তারপর তিনি বিবাহ করেন রমা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর একমাত্র পুত্র তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি ১৯৪৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫১ সালে "ইছামতী' উপন্যাসের জন্যে তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার পান। বিভূতিভূষণ তাঁর ভাই বোনদের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রজ ছিলেন।  বিভূতিভূষণ শরৎ পরবর্তী বাংলা কথাসাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র।
সাহিত্য জীবন
১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে (অর্থাৎ ১৩২৮বঙ্গাব্দ) "প্রবাসী' পত্রিকার মাঘ সংখ্যায় "উপেক্ষিতা' নামক গল্প প্রকাশের মধ্য দিয়েই তাঁর সাহিত্যিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে। ভাগলপুরে কাজ করার সময় ১৯২৫ সালে তিনি "পথের পাচাঁলী' রচনা শুরু করেন। এই বই লেখার কাজ শেষ হয় ১৯২৮খ্রিষ্টাব্দে, এটি বিভূতিভূষণের প্রথম এবং বিখ্যাত রচনা‌। সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ তাঁর এই লেখাটি পছন্দ করে "বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশ করে অসাধারণ জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এরপর "অপুর সংসার' এবং "অপরাজিত' রচনা করেন। সেগুলি "পথের পাচাঁলীর'ই পরবর্তী অংশ। উভয় উপন্যাসেই তাঁর ব‍্যক্তিগত জীবনের প্রতিফলন ঘটে। "পথের পাচাঁলী' উপন্যাসটি বিভিন্ন ভারতীয় ভাষা এবং ইংরেজি ও ফরাসীসহ বিভিন্ন পাশ্চাত্য ভাষায় অনুদিত হয়েছে। তাঁর কয়েকটি গল্প গ্রন্হ হল- "মেঘমল্লার', "মৌরীফুল'। তাঁর লেখা "চাদেঁর পাহাড়' একটি অনবদ্য এ্যডভেঞ্চার কাহিনী যার পটভূমি আফ্রিকা। ২০১৩ সালে বিখ্যাত চিত্র পরিচালক কমলেশ্বর মুখার্জী "চাদেঁর পাহাড়'কে বাংলা চলচ্চিত্রে রূপান্তর করেন। এই চলচ্চিত্রটিও বাংলা চলচ্চিত্র জগতে যথেষ্ট খ‍্যাতি লাভ করে।
উপন্যাস
পথের পাচাঁলী (১৯২৯)
অপরাজিত (১ম ও ২য় খণ্ড) ১৯৩২
দৃষ্টি প্রদীপ (প্রবাসী, ১৯৩৫)
আদর্শ হিন্দু হোটেল (মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত, ১৯৪০)
বিপিনের সংসার (১৯৪১)
দুই বাড়ী (১৯৪১)
অনুবর্তন (১৯৪২)
দেবযান (১৯৪৪)
কেদার রাজা (মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত, ১৯৪৫)
হীরা মাণিক জ্বলে (১৯৪৬)
অথৈজল (প্রভাতী পত্রিকায় প্রকাশিত, গ্রন্থাকারে প্রকাশ ১৯৪৭)
ইছামতী (১৯৫০)
দম্পতি (১৯৫২)
অশনি সংকেত (১৯৫৯)
অনশ্বর (১৯৭২)
ছোটদের উপন্যাস
চাঁদের পাহাড় (মৌচাক পত্রিকা, ১৯৩৮)
মিসমিদের কবচ (১৯৪২)
মরণের ডঙ্কা বাজে (মৌচাক পত্রিকা, ১৯৪৮)
ছোটগল্প
বিভূতিভূষণের প্রকাশিত গল্পের সংখ্যা ২২৪। তাঁর গল্পগ্রন্থের সংখ্যা ১৯।
মেঘমল্লার (১৯৩১)
মৌরীফুল (১৯৩২)
যাত্রাবদল (১৯৩৪)
জন্ম ও মৃত্যু (১৯৩৭)
কিন্নর দল (১৯৩৮)
বেণীগীর ফুলবাড়ী (১৯৪১)
নবাগত (১৯৪৪)
উপলখণ্ড (১৯৪৫)
বিধুমাষ্টার (১৯৪৫)
ক্ষণভঙ্গুর (১৯৪৫)
অসাধারণ (১৯৪৬)
মুখোশ ও মুখোশ্রী (১৯৪৭)
নীল্গঞ্জের ফালমন সাহেব (১৯৪৮, আচার্য কৃপালনী কলোনী নামে প্রথম প্রকাশিত)
জ‍্যোতিরিঙ্গণ (১৯৪৯, মৃত্যুর পর প্রকাশিত)
কুশল পাহাড়ী (১৯৫০)
সুন্দরবনে সাত বৎসর (১৯৫২)
রূপহলুদ (১৯৫৭)
অনুসন্ধান (১৯৬০)
ছায়াছবি (১৯৬০)
কুয়াশার রঙ (১৯৬২)
সুলোচনা (১৯৬৩)
প্রেমের গল্প (১৯৬৩)
অলৌকিক (১৯৬৩)
বিভূতিভূষণের গল্পসমগ্র (প্রথম খণ্ড ১৯৭৫, দ্বিতীয় খণ্ড ১৯৭৮)
দিনলিপি
স্মৃতির রেখা (রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিতে উৎসর্গ, ১৯৪১)
তৃণাঙ্কুর (১৯৪৩)
উর্ম্মিমুখর (১৯৪৪)
উৎকর্ণ (১৯৪৬)
হে অরণ্য কথা কও (১৯৪৮)
অন্তরঙ্গ দিনলিপি (১৯৭৬)
প্রবন্ধ
আমার লেখা (১৯৬১)
ভ্রমণ কাহিনি
বনে পাহাড়ে (১৯৪৫)
তাঁর যে সমস্ত বই নিয়ে সিনেমা হয়েছে
পথেঁর পাচাঁলী (১৯৫৫)
অপরাজিত (১৯৫৬)
অপুর সংসার (১৯৫৯)
বাক্স বদল (১৯৭০)
নিশি পদ্ম (১৯৭০)
অমর প্রেম (১৯৭১)
নিমন্ত্রণ (১৯৭১)
ফুলেশ্বরী (১৯৭৪)
চাঁদের পাহাড় (২০১৩)
আলো (২০০৩)
পুরস্কার ও সম্মাননা
রবীন্দ্র পুরস্কার- ১৯৫১ (মরণোত্তর), ইছামতী উপন্যাসের জন্য
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বনগাঁ মহকুমার (লেখকের জন্মস্থান) পারমাদান বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নাম লেখকের সম্মানার্থে রাখা হয়েছে "বিভূতিভূষণ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।'
মৃত্যু
১ নম্ভেম্বর ১৯৫০ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঘাটশিলাতে পরলোক গমন করেন।
প্রবন্ধ: নবরূপা দাস
তথ্যসূত্র
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, দেবেশ কুমার আচার্য্য
২. বাংলাপিডিয়া
There are no reviews yet.
0
0
0
0
0

Website Developed by:
DR. BISHWAJIT BHATTACHARJEE
Assistant Prof. & Head
Dept. of Bengali
Karimganj College, Karimganj, Assam, India, 788710

+919101232388

bishwa941984@gmail.com
Important Links:
Back to content